পোস্টগুলি

কলকাতা বইমেলা ২০২৬ - আমার নতুন বই আসছে না

সামনের বইমেলায় আমার কোনও বই প্রকাশিত হচ্ছে না। গত বছরও হয়নি। আমার এই যে বই প্রকাশিত হচ্ছে না, তাতে পাঠক সমাজের ভারী বয়েই গেছে। বাংলা সাহিত্যের এতটুকুও ক্ষতি তাতে হচ্ছে না। তবে আমার ক্ষতি হচ্ছে। মানসিকভাবে অস্থির লাগছে এবং যে লেখক হওয়ার লক্ষ্য সামনে রেখে প্রায় এক দশক আগে লেখালেখি শুরু করেছিলাম, সেই যাত্রাপথ ক্ষতিগ্রস্ত হল। হয়তো এই পোস্ট কেউই পড়বে না। তবু কারণগুলো পাবলিকলি লিখে রাখি। ১) শ্রীভূমিতে বসবাস: শ্রীভূমিতে আমার ফ্ল্যাট দোতলায়, রাস্তার ধারে। শুধু এইটুকু বললে কিছুই বলা হয় না। বরং যেটা বলতে বলতে বাড়ির ঠিক নীচে এক তলায় ঘুপচি ঘুপচি দোকান (যার মধ্যে একটি অসভ্য মোবাইল রিপেয়ারিং-এর দোকান আছে), যেখানে কিছু দোকানদার সকালে-রাতে গালিগালাজ করে। বাড়ির ঠিক উল্টোদিকে বিহারী পানের দোকান, যেখানে এই শীতের রাতেও রাত একটা পর্যন্ত খদ্দেররা চিৎকার করে এবং অন্যের মা-বাবা তুলে গালাগালি করে। এছাড়া আমার ফ্ল্যাটের ঠিক নীচে দাঁড়িয়ে রিকশাওলা বা টোটোওলার চিৎকার-গালাগালি এসব শুনতে হয়। আমাকে এইসব জ্বালাতন করা লোকের অসভ্যতার সামনে সকাল থেকে রাত অবধি মাথা ঠান্ডা রাখতে হয়। শ্রীভূমিতে যেহেতু রাত-বিরেতে শব্দ করার ওপ...

আন্তর্জাতিক দাবাখেলায় বাঙালিরা কোথায়?

ছবি
নরওয়ে চেজ ২০২৫ ইভেন্টের শুভসমাপ্তি ঘটল। ম্যাগনাস কার্লসেন সপ্তমবারের জন্য এই শীর্ষে থেকে এই খেতাব জিতলেন। তা বেশ। কিন্তু এই প্রতিযোগিতায় তাঁকে বেশ ভালোরকম ভাবে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন ডি গুকেশ। অল্পবয়সী, নম্র-ভদ্র ব্যক্তিত্বের এই ছেলেটিকে অল্পক্ষণ দেখলেই ভালো লাগে। ব্যবহার বা শরীরী ভাষায় কোনও ঔদ্ধত্য নেই; এ যেন পুরোপুরি ভারতীয় আদর্শে দীক্ষিত! আগেকার দিনে বলা হত ক্রিকেট নাকি ভদ্রলোকেদের খেলা। বর্তমানের দাবাখেলায় গ্র‍্যান্ডমাস্টারদের শরীরী ভাষা দেখলে বলতে ইচ্ছে করে, ক্রিকেট নয়, আসলে দাবা খেলাই হল ভদ্রলোকেদের খেলা। অবশ্য গুকেশের কাছে হেরে কার্লসেনের টেবিলে ঘুঁষি মারার প্রসঙ্গ কেউ কেউ তুলতে পারেন, কিন্তু আমার মনে হয়, সেটা কেবলই একটা ব্যতিক্রম। কারণ কার্লসেন কিন্তু পরমুহূর্তেই গুকেশের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করেন এবং পরে পিঠ চাপড়ে দেন। স্পষ্টতঃই এটা খেলোয়াড়সুলভ মনোভাবের পরিচয় এবং এমন দৃশ্যই দিনের শেষে বিশ্বখ্যাত একজন দাবাড়ুর থেকে প্রত্যাশিত। দাবা খেলার ইতিহাস ভারতে বহুকালের। সম্ভবত, যখন এই খেলা প্রচলিত হয়, তখন এর নাম ছিল চতুরঙ্গ। তারপর বহু পথ পেরিয়ে এই খেলা ভারতসহ বিশ্বময় জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এবং আজক...

আর জি করের ঘটনা থেকে যা বুঝলাম

 আর জি করের ঘটনা থেকে এখনও পর্যন্ত যা যা দেখলাম শিখলাম ১) জুনিয়র ডাক্তাররা ভদ্র ও শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ করতে জানে। আমি ভেবেছিলাম যে পুলিশের সাথে তাদের সম্মুখে সাক্ষাত বুঝি শারীরিক বলপ্রয়োগ বা হানাহানি দিয়ে না শেষ হয়! আমার আশঙ্কা যে সত্যি প্রমাণ হয়নি, তাতে আমি খুব খুশি। ২) প্রতিবাদীদের অধিকাংশেরই ভারতীয় বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই! তারা ভেবেছিল যে সিনেমায় যেমন দেখায়, তেমন ভাবে বুঝি এক সপ্তাহের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে! সেসব ভেবেই তারা সকাল-বিকেল-রাত্রিতে ফেসবুকে পোস্ট করছিল। তারপর যথারীতি বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় আপাতত প্রতিবাদী পোস্ট করা অনেকটাই কমে এসেছে। ৩) পুলিশ ও মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে ঠান্ডা মাথায় প্রতিবাদী জুনিয়ার ডাক্তারদের সাথে কথা বলেছে, বা পরিস্থিতি সামলেছে, সেটা শিক্ষণীয়। ৪) ফেসবুকের বাঙালি জনগণ দেখিয়ে দিল যে ধর্ষণ নিয়েও কন্টেন্ট মার্কেটিং করা যায়। (কী লজ্জা!) যেভাবে প্রতিবাদের নাম করে এক একজন ব্যক্তি নিজেদের পোস্টের লাইক-শেয়ার-কমেন্ট বাড়িয়েছে, সেই মানসিকতাকে ধিক্কার জানানোর ভাষা নেই। ৫) আর জি করের ঘটনার পরে গোটা রাজ্যে এবং দেশজুড়ে আরও শ্লীলতাহান...

আর জি কর হাসপাতালে ধর্ষণ, কলকাতায় প্রতিবাদ মিছিল এবং বিচার

আপনি যদি বাঙালি হন তবে আপনাকে প্রশ্ন করে লাভ নেই। আপনি জানেন যে ৯ আগস্টের রাতে আর জি কর হাসপাতালের সেমিনাররুমে কী ঘটেছিল। কোনও মেয়েকে যতটা বিকৃতভাবে ধর্ষণ করা যায়, ততটাই করা হয়েছে। যতটা নির্মম ও নারকীয়ভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া যায়, সেটাই করা হয়েছে। সুতরাং এর বিরুদ্ধে সমাজের সব শ্রেণীর মানুষ যে সোচ্চার হবে, সেটাই স্বাভাবিক। এমন প্রতিবাদ আমি জীবদ্দশায় দেখিনি। এবং আমি বলব, এমন রক্তপাতহীন প্রতিবাদও আমি দেখিনি। একটা কথাই বলা যায়, যেসব মহিলা ১৪ আগস্টের রাতে মেয়েরা রাতের দখল নাও বলে শহরের বিভিন্ন জায়গায় সমবেত হয়েছিলেন, তাঁদের সাহস, প্রতিবাদী মনোভাব, অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠাকে অন্তর থেকে শ্রদ্ধা জানাতে ইচ্ছে করে। এঁরা সত্যিকারের বাঙালি মেয়ে এবং বাঘিনীর মতো ব্যক্তিত্বের অধিকারিণী। এঁদের আত্মমর্যাদাবোধ নিয়ে কোনও কথা হবে না! এবং তাছাড়াও বলব এঁদের মধ্যে প্রায় বেশিরভাগই ফেসবুকে বা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ ও সামাজিক লড়াইটাকে এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন। এই ইস্পাতকঠিন মানসিকতাকে প্রণাম জানানো ছাড়া আর কী বা করার থাকতে পারে! প্রতিবাদ ও রাজনীতি: রাজ্যের বিরোধী দলগুলো দীর্ঘদিন ঘরে সরকারবিরোধী লড়াই ক...

আন্তির্জাতিক নারীদিবসের উৎস ও প্রয়োজনীয়তা

আন্তর্জাতিক নারীদিবস নিয়ে কিছু কথা আন্তর্জাতিক নারীদিবসের উৎস খুঁজতে আমাদের বিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকে যেতে হবে। ভাবলে আশ্চর্য লাগে যে সেই সময়েও কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের জন্য সঠিক পরিবেশ ছিল না, তাঁদের ভোটাধিকার ছিল না এবং প্রথম বিশ্বের দেশগুলিতেও লিঙ্গবৈষম্য ছিল। এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন বিশ্বজুড়ে মহিলারা। অবশেষে এগিয়ে এলেন ক্লারা জেটকিন নাম্নী এক মহিলা। ১৯১০ সালে আন্তর্জাতিক কর্মরত মহিলাদের সম্মেলন চলাকালীন তিনি বক্তব্য রাখলেন যে মহিলাদের ভোটাধিকার ও সমানাধিকারের দাবিতে একটি বাৎসরিক দিন পালিত হোক। এই দিনটির নাম হোক মহিলা দিবস। ক্লারার বক্তব্য শোনবার জন্য দীর্ঘদিন ধরে হাজার হাজার নারী অপেক্ষা করে ছিল। বিপুল সমর্থন সহ তাঁর প্রস্তাব গৃহীত হল এবং বিশ্বের প্রথম আন্তর্জাতিক মহিলা দিবস উদ্‌যাপন করা শুরু হল ১৯১১ সাল থেকে। এই উদ্‌যাপনকে মান্যতা দিয়েছিল অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি এবং সুইজারল্যান্ডের মতো দেশ। তারপর থেকে নিয়মিত এই দিনটি পালন করা হয়ে আসছে। আজকেও যুগেও যখন মহিলাদের ওপর ঘৃণ্য অপরাধ ঘটে থাকে, যখন কিছু দেশে ধর্মের নামে মহিলাদের নিচু চোখে দেখা হয়, যখন প্রত্যন্ত গ্রামে কন্যাভ্রূণ হত্...

রাইটার্স ব্লক ও বাঙালি শখের লিখিয়ের বইপ্রকাশ

 কোনও এক লেখক না কবি বুঝি বলেছিলেন যে রোজ নিয়ম করে লেখার জন্য টেবিলে বসতে হয়। তবে লেখা আসে। তবে বড় লেখা লিখে লেখক হওয়া যায়। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে, রোজ রোজ লিখবটা কী? রোজ নতুন গল্পের প্লট খুঁজে বের করা বা রোজ নতুন টপিকের ওপর প্রবন্ধ লেখার মতো ট্যালেন্টেড আমি নই। আবার অন্যের ধারণা কপি করতে আমি রাজি নই। কিংবা পড়াশোনা না করে হাস্যকর, ভাসা-ভাসা বা ভুল তথ্যসমৃদ্ধ প্রবন্ধও আমি লিখতে পারব না। তাহলে উপায়? উপায় হল যে রোজ না লেখা। তবে রোজ বই পড়া। রোজ বই পড়লে লেখার আইডিয়া জন্মায় বা জন্মাতে পারে। যখন মাথায় ভালো আইডিয়া আসবে, তখনই একমাত্র লিখতে বসা।  অনেকে রাইটার্স ব্লকের কথা বলেন। অর্থাৎ খানিকটা লেখার পরে এক শূন্যতা দেখা দেয়। এমন একটা কিছু যাকে অতিক্রম করে আর ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হওয়া যায় না। আমার ক্ষেত্রে রাইটার্স ব্লক কথাটা ঠিক খাটে না। কারণ আমি রাইটার বা লেখকই নই! লেখালেখি হল একপ্রকার সাধনা। আমি সেই সাধনার পুরোদস্তুর সাধক নই। আমি হলাম নিতান্তই শখের লিখিয়ে। প্লট মাথায় আসা ছাড়াও নিজের মন-মেজাজের ওপর আমার লিখতে বসা নির্ভর করে। তা ছাড়াও নির্ভর করে বছরের কোন সময়ে আমি কতটা ব্যস্ত।...

মা দুর্গা - জগতের নেত্রী

ছবি
অতিরিক্ত অহঙ্কার ভালো নয়। অতিরিক্ত ক্ষমতাও নয়। মহিষাসুর ভেবেছিলেন যে তিনি হলেন অমর, অক্ষয়, অজেয়। কেউ তাঁকে হারাতে পারবে না। ক্ষমতাশালীরা সবসময় তাই ভাবে। শুধু মহিষাসুরই নন, তাঁর যাঁরা ঘনিষ্ঠ অনুগামী, তাঁরাও কি একই আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন না? (ওপরের ছবিটি আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সাহায্যে তৈরী করা হয়েছে) মহাসুর চিক্ষুর, উদগ্র, অসিলোম, পরিবারিত, বিড়ালাক্ষ যখন তাঁদের মায়াবী অস্ত্রশস্ত্র ও অভাবনীয় অসুর সেনাবাহিনী নিয়ে দেবীর সঙ্গে লড়তে এলেন, তখন ঠিক কী চিন্তা কাজ করেছিল তাঁদের মনে? তাঁরা ভেবেছিলেন যে কে আগে এই দৈব নারীকে পরাজিত করে ও বন্দি বানিয়ে মহিষাসুরের কাছে নিয়ে যাবে। বোধহয় নিজেদের সুবিশাল সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা এবং দুর্বল দেবতাদের শক্তি নিয়ে তাঁরা এমনই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে শুরু করেছিলেন, তাঁরা ভেবেও দেখেননি যে শত্রু তাঁদের শক্তি ও দর্পকে চূর্ণ করতে কতটা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে তৈরী হয়ে এসেছে। দেবাসুরদের এই লড়াইটা আর মাসল পাওয়ারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। সেটা হয়ে দাঁড়াল মাসল পাওয়ারের বিরুদ্ধে ব্রেন ও মাসলের যৌথ সংগ্রাম। দেবতারা দেখলেন এক সর্বোত্তম অস্ত্র দিয়েই অসুরদের সব অস্ত্র ভোঁতা করে দে...

মন্দ লেখক সায়ক গোস্বামী

ছবি
আমি সায়ক। আমি এই মুহূর্তে দরদর করে ঘামছি। ঘেমে যাবারই কথা৷ মেয়েটা আস্তে আস্তে তার শরীরের কাটা দাগগুলো দেখাচ্ছে। আর নিঃশব্দে হাসছে। বড়ই শয়তানী ও অস্বস্তিকর এই হাসি। এই দাগের সঙ্গে কোনও কিছুর যেন মিল আছে। ও হ্যাঁ, মনে পড়েছে এইবার। হ্যাঁ, এগুলো তো সেই কাটার দাগ।  হঠাৎ করে আমার মন অতীতে চলতে শুরু করে। আমি ফিরে যাই দু'বছর তিন মাস আগের সেই ঘটনায়। একটা সাফল্যের রাত৷ এক কর্পোরেট সংস্থা থেকে বাৎসরিক সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হচ্ছিল। গত বছরের মতো এবছরও জনপ্রিয় সাহিত্যিকের পুরস্কারটা নিতে মঞ্চে উঠেছিলাম আমি, জনপ্রিয় লেখক সায়ক গোস্বামী৷ এই সময়কার প্রেমের উপন্যাস ও সামাজিক গল্প-উপন্যাস লেখায় আমি প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী। অবশ্য আমার সাফল্যের মূল কারণ হল রাজনীতি, লবিবাজি এবং মার্কেটিং। স্যোশাল মিডিয়ায় আমি টাকা দিয়ে কিছু চাটুকার পুষে রেখেছি। চাটুকারগণ আমার নামে ফেসবুকে গ্রুপ বানিয়ে নিত্যদিন আমার লেখার গুণগান গায়। এছাড়া বেশ কিছু সাহিত্যজগতের শক্তিশালী লোকের সঙ্গে আমার এমন দহরম মহরম আছে যে আমার লেখা বিভিন্ন অডিও ও ভিডিও স্যোশাল মিডিয়ায় জবরদস্তি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। অনেক ছোট অডিও চ্যানেলকে আমি টাকা ছড়িয়ে বা কোল...

বাংলা অডিও গল্প - ভৌতিক, হরর, থ্রিলার ও অন্যান্য

আমার বিভিন্ন শ্রুতিগল্পগুলো অনেকেই শুনতে চান। এখানে আমার প্রকাশিত বিভিন্ন ইউটিউব গল্পগুলোর লিঙ্ক দিলাম। আশা করি, শুনে আপনাদের ভালো লাগবেঃ অহর্নিশি চ্যানেল থেকে হরর গল্প অডিও স্টোরি ।  ফ্রিকি ফ্রাইডে চ্যানেল থেকে হরর গল্প মেরি ক্রিসমাস । ফ্রিকি ফ্রাইডে চ্যানেল থেকে কল্পবিজ্ঞান গল্প ভবিতব্য । লেখনি ক্রিয়েশান চ্যানেল থেকে থ্রিলার গল্প বিদ্বেষ ।  গল্পের খেলাঘর চ্যানেল থেকে কল্পবিজ্ঞান গল্প স্বর্ণ আঁধার ।  আদিদা সিরিজের গল্পঃ ফ্রিকি ফ্রাইডে চ্যানেল থেকে আদিদা সিরিজের গল্প রুদ্র তান্ত্রিকের গল্প । ওয়াও অডিও স্টোরি চ্যানেল থেকে আদিদা সিরিজের গল্প কুয়োর আতঙ্ক ।  স্কেয়ারি টেলস ( Scary Tales ) চ্যানেল থেকে আদিদা সিরিজের গল্প মারাচ । এই লিস্টে আরও গল্প যোগ হবে। 

ভূতুড়ে মেস - আদিদার সাথে প্রথম সাক্ষাতের গল্প

ছবি
 আদিদা সিরিজের প্রথম গল্প (১) - তুলসীরাম পিজিতে আগমন আমার কলকাতার বন্ধুদের মধ্যে এই ঘটনাটা যাদেরই বলেছি, কেউ বিশ্বাস করেনি। কিন্তু আমি জানি, এই ঘটনা সর্বৈব সত্যি। ঘটনার শুরু আজ থেকে পাঁচ বছর আগে যখন আমি প্রথমবার ব্যাঙ্গালোরে চাকরি খুঁজতে যাই। নতুন শহর। অজানা সংস্কৃতি। ফলে আমি বেশি রিস্ক নিইনি। যশোবন্তপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রথমে এক ব্যক্তি কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে কাছাকাছি উত্তর ব্যাঙ্গালোরে ভালো পিজি কোথায় আছে। তিনি আমার চাকরীর জায়গা প্রথমে জিজ্ঞাসা করলেন। আমার উত্তর শুনে বললেন যে উত্তর ব্যাঙ্গালোরের থেকে দক্ষিণ ব্যাঙ্গালোরে থাকলে আমার চাকরিস্থল কাছাকাছি হবে। এবং বললেন এইচ এস আর লেআউটের একটি ভালো পিজি আছে যেখানে সব কর্মরত ছেলেরা থাকে। আমি সেখানে গিয়ে খোঁজ করতে পারি। ঘর যে কোনও সময় পাওয়া যায়। যদিও কোনও এক অজ্ঞাত কারণে ছেলেরা এই পিজি ছেড়ে চলে যায়।  আমি বললাম, "আপনি যখন পিজি সম্বন্ধে এত কিছু জানেন তখন মনে হয় আপনার বোধহয় কোনো ব্যক্তিগত পরিচিতি আছে পিজির মালিকের সাথে।" ভদ্রলোক হাসলেন। তিনি বললেন, "না, পিজির মালিকের সাথে আমার কোনও পরিচয় নেই। কিন্তু হ্যাঁ, আমার এক প...

কলকাতা বইমেলা ২০২২

ছবি
বাঙালির চোদ্দতম পার্বণঃ বই-পার্বণ কলকাতা বইমেলা ২০২২ একটা গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। গেটটার মাথার ওপর দিয়ে গলিত সোনার মতো সূর্যালোক মুখে এসে পড়ছে। রোদের তেজ বলছে বসন্ত ক্ষণিকের। গ্রীষ্মকাল সমাগত প্রায়। কিন্তু গরমের কষ্ট কিছুই অনুভূত হচ্ছে না। বইমেলার গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছি কিনা! দু'বছর পরে কলকাতা বইমেলায় প্রবেশের আনন্দে দুপুরের রোদের তীব্রতাকে অবজ্ঞা করা যায়। আলোকচিত্রীঃ বিশ্বজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ২০২২ এর বইমেলায় ৩ নম্বর গেট দিয়ে ঢুকলাম। ঢুকে ডানদিকে যেতেই পালক পাবলিশার্সের স্টল। সেখানে নতুন বইগুলো দেখে নিয়ে চলে গেলাম অন্যান্য প্রকাশনীর স্টলগুলো দেখতে দেখতে। দেখা হল অরণ্যমন প্রকাশনীর চিরঞ্জীৎ দাস এবং শব্দ প্রকাশনীর বিকাশ কল্পের সাথে। কিনলাম সৈকত মুখোপাধ্যায়ের শিম লতার নূপুর। সৈকতবাবু যেন শব্দে নূপুর বাজিয়ে চলে গেছেন। এমনই কাব্যিক গদ্য তাঁর। এদিক ওদিক ঘুরতে ঘুরতে দেখা হয়ে গেল সৈকতবাবুর সাথেও। সেখান থেকে এদিক-ওদিক দিশাহীনভাবে হেঁটে বেড়াতে বেড়াতে দেখা হয়ে গেল রূপম প্রকাশনীর অতনু সোমের সাথে।  চারদিকে নজরে এল মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত কোলাহল। সুন্দরী মহিলা ও স্মার্ট যুবকেরা হাত ধরাধরি করে বই কিনতে...

মুক্তগদ্য - শীতের রাত ও বৃষ্টি

  শীতের সময় বৃষ্টি একটা মন খারাপের কবিতা। শব্দেরা জড়সড় হয়ে থাকে। ঘুম ভাঙতে চায় না।  সবসময় শূন্যতা। কোথায় যেন কিছু একটা নেই। কী নেই তা বোঝবার আগে না থাকার ব্যথা ধাক্কা মারে বুকের ভেতর। অনেকগুলো শব্দ একে অপরকে জড়িয়ে ধরে, শীতের মতো কামড়ে ধরে। ঝরা পাতার মতো নিঃশব্দে ঝরে যায় বোবা আর্তনাদ।  অন্ধকারের দীর্ঘশ্বাসের মতো ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ে। অল্প সময়ের এই বৃষ্টি। কিন্তু লুটেরা, শীতল হাওয়া অদৃশ্য ঘোড়ায় চেপে দাপিয়ে বেড়ায় সারা শহর। নিঝুম রাতে হাওয়া যেন ক্ষুধার্ত হয়ে যায়। কেমন যেন ক্ষুধার্ত হয়ে ঘুরে ঘুরে বেড়ায় কাউকে আঁকড়ে ধরার জন্য, এতটুকু ভালোবাসার জন্য। এমন শীত ও ঠান্ডা হওয়ার প্রকল্পে রাতারাতি বেড়ে যায় উষ্ণতার বাজার দর। সামান্য উষ্ণতার জন্য হাতের আঙুলগুলো খুঁজে বেড়ায় উষ্ণতার উৎসস্থল। কিন্তু আমরা সবাই উষ্ণতার স্পর্শ কি পাই? একটু গরম শরীরের বা চামড়ার স্পর্শ পাওয়ার জন্য মনটা কেমন যেন ভিখিরি হয়ে যায়।  শীতের বৃষ্টির পরে কাদামাখা রাস্তা বোবার মতো চুপ করে থাকে। রাস্তার ধারের রঙচটা দেওয়ালগুলো মৃতের মত চুপ করে থাকে। নির্জীব সিঁড়িগুলো লাশের মতো ঠান্ডা। শরীরকে আরাম...

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বাংলা ভাষার অবক্ষয় নিয়ে কিছু কথা

এই কথাটা খুব ভুল যে ছেলেরা (মেয়েদের চেয়ে) মাকে বেশি ভালোবাসে। কারণ মেয়েরাও মাকে খুবই ভালোবাসে। মায়ের স্পর্শ জড়িয়ে থাকে জীবনের প্রতিক্ষণে। মা সন্তানের লিঙ্গ দেখে ভালোবাসেন না। তিনি নিজের স্নেহ-মমতার সোনালি আলো ছড়িয়ে দেন নিজের সন্তানদের মধ্যে। সন্তানরা যদি মায়ের সেই স্বর্ণাভ আলোয় আলোকিত হতে চায়, তবে তাদেরও মায়ের ছত্রছায়ায় থাকতে হবে। মায়ের জীবনের সঙ্গে নিজের জীবনকে ওতপ্রোত ভাবে জুড়তে হবে। তবেই মায়ের গভীর জীবনবোধ সন্তানের মধ্যে সঞ্চারিত হবে।  কথাগুলো নিজের জন্মদাত্রী মায়ের ক্ষেত্রে যেমন সত্যি, মাতৃভাষার ক্ষেত্রেও তেমন সত্যি। মাতৃভাষা আমাদের অক্সিজেন। সবসময় জড়িয়ে থাকে, কিন্তু নিজের অস্তিত্বের প্রমাণ না দিয়ে। এক অদৃশ্য উপস্থিতি। মাতৃভাষার ভালোবাসা গভীর, কিন্তু সবাই তা উপলদ্ধি করে না। আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষার সাথে মায়ের তুলনা চলেই আসছে। মা বুড়ি হয়ে গেলে আর সন্তানেরা বড় হয়ে গেলে, বহু স্বার্থপর সন্তান মায়ের থেকে নিজের দূরত্ব বজায় রাখতে চায়। সরল ও মাটিঘেঁষা মাকে ভুলে থাকতে পারলেই যেন তাদের আনন্দ। বাংলা ভাষার সাথেও আমাদের সম্পর্কটা যেন কিছুটা তেমনই হয়ে গেছে। অফিস, ইস্কুল, বড়লোকি আড...

কলকাতা বইমেলায় ভূতের বই

ছবি
বইয়ের নামঃ পড়লে ভয় পাবেন প্রকাশকঃ আগন্তুক মুদ্রিত মূল্যঃ ২২০ টাকা  ************** ভূতের গল্প তো অনেক পড়লেন। কিন্তু এমন ক'টা ভূতের গল্প পড়েছেন যা পড়বার পরে মনের ভেতর ভয়ের অনুভূতি সুনামির মতো আছড়ে পড়ে? এমনই এক ভূতের গল্পের বই 'পড়লে ভয় পাবেন'। গল্পগুলো পড়তে পড়তে মনে হবে, কেউ যেন আড়াল থেকে লক্ষ করে চলেছে আপনাকে। তার শীতল নিঃশ্বাস পড়ছে আপনার ঘাড়ের ওপর। হয়তো ঘরের আলো নিভে গেলেই সেই প্রেতলোকের অশরীরী ঝাঁপিয়ে পড়বে আপনার ওপর আর তারপর... 'পড়লে ভয় পাবেন' বইতে আছে আটটি ছোট-বড় গল্প। আটটি গল্পের সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলঃ ১) লিথপসঃ গাছ আড়ালে এক ভীতিকর প্রাণীর গল্প। সাথে আছে অশরীরীর আনাগোনা। ২) অপদেবতাঃ এক নির্জন দ্বীপে মাছ ধরতে যায় এক ভিডিও ব্লগার এবং এক জেলে। তারপর কী হয় তাদের দুজনের? ৩) ফাটলঃ শুখানি গ্রাম হল উত্তরাখণ্ডের এক পরিত্যক্ত গ্রাম। সেই গ্রামের পটভূমিকায় এক ভয়ংকর গল্প। ৪) মাঃ এটি ঐতিহাসিক গল্পের মোড়কে ভৌতিক ও অলৌকিক গল্প। গল্পে রয়েছে বাংলায় বর্গী আক্রমণ, অশরীরী উপস্থিতি এবং সর্বোপরি এক দেবীর কথা। ৫) অপার্থিব দেবতাঃ কসমিক হরর নিয়ে গল্প পড়তে যাঁরা পছন্দ করেন, এই গল্পটি সেই...

ভ্যালেনটাইন্স ডে - বিশ্বজিতের কথা

 এই যে লিখতে বসেছি, এখন ভ্যালেন্টাইন্স ডের রাত। প্রেমিক-প্রেমিকরা গত বেশ কয়েকদিন ধরে রোজ ডে, প্রপোজ ডে, প্রমিস ডে, হাগ ডে, কিস ডে এবং সর্বোপরি ভ্যালেন্টাইন্স ডে নিয়ে মাতামাতি করে হয়তো ভাবছে এবার কী করা যায়। আগামীকাল মানে ফেব্রুয়ারীর পনেরো তারিখ কী করবে।  আমি অবশ্য ভাবছি না। আমার কোনও প্রেমিকা নেই। আজ থেকে দশ বছর আগেও ছিল না। কুড়ি বছর আগে? উঁহু, না। আমার কখনই প্রেমিকা জোটেনি৷ আসলে শীতে কুঁকড়ে থাকা বুড়ো মানুষের মতোই আমার মনটা। আমার মন মেয়েদের শিকার মনে করে শ্বাপদের মতো ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে না। আমার মন হল এক ইন্ট্রোভার্ট বা অন্তর্মুখী মানুষের মন। এমন এক মন যা মেয়েদের ভালোবাসার কথা বলতে ভয় পায়। তাই মেয়েদের নির্লজ্জের মতো বিরক্ত করতে পারি না - না স্যোশাল মিডিয়ায়, না বাস্তব জীবনে। কিন্তু তাই বলে কি আমার মধ্যে ভালোবাসা নেই? আছে, ঠিকই আছে।  আমি যেহেতু ভালোবাসা বিলোনোর জন্য সঙ্গিনী খুঁজে পাইনি, তাই নিজের ভালোবাসা মানবীর বদলে বস্তুদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছি। আমি অক্ষরশিল্পী হতে চেষ্টা করেছি, আমি ভালোবেসেছি পাহাড়, আমি অন্ধভাবে মনের ভেতর রেখে দিয়েছি সুন্দর গান ও চলচিত্র। এইসব নিয়েই আমি নিজে...